সিনিয়র গুন্ডি মেয়ের ভালোবাসা (পর্ব ৪):
  • Rajib
  • Category: Romantic
  • 4 months ago



  • **আসলে একজন মানুষকে কী করে মুখের ওপর না করে দেই যে আপনি কল দিবেন না,,,।এটা কেমন খারাপ দেখায়,। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্তেও অন্তরা আপুর সাথে টুকটাক কথা বলছিলাম,,। আমি যখন অন্তরা আপুর সাথে কথা বলছি ঠিক তখনি কে যেন পিছন থেকে এসে আমার হাত থেকে মোবাইল টা নিয়ে নেয়,,।আর আমি পিছনে তাকিয়ে যাকে দেখি,, তাকে দেখে ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়,,।কারণ সেই মানুষটি হল,,,

    **কারণ মানুষটি হল অধরা আপু,,,।আমি অধরা আপুর দিকে তাকিয়ে দেখি আপু আমার মোবাইলটা হাতে নিয়ে রাগি ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,।তার এমন রাগী ভাবে তাকানো দেখে ভয়ে আমি নিচের দিকে তাকিয়ে থাকি,,,।তখন অধরা আপু আমাকে বলল,,,

    অধরা : তুই এতক্ষণ কার সাথে কথা বলছিলি,,,,(রাগি কন্ঠে বলল)

    **অধরার কথা শুনে ভয়টা আরো বেড়ে গেল,,এখন যদি আমি বলি যে অন্তরা আপুর সাথে কথা বলছিলাম তাহলে আমার খবর করে ছেড়ে দিবে,,।কারণ অধরা কোন মেয়ের সাথে আমার কথা একদম দেখতে পারে না,,।তখন আমি বললাম,,,,,,

    আমি : আপু আমি তো বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম,,,,(ভয়ে ভয়ে বললাম)

    আমার কথা শুনে অধরা বলল,,,,

    অধরা : তোর কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছিলি,,,,,(রাগী কন্ঠে বলল)

    আমি : শিমুলের সাথে কথা বলছিলাম,,,,( ভয়ে মিথ্যা বললাম)

    **তবে আমার কথাটা শুনে মনে হয় অধরা বিশ্বাস করতে পারছে না,,,।তখন অধরা আমার ফোনে কী যেন চেক করতে লাগলো,,। তারপর কিছু সময় আমার মোবাইল গাটাগাটি করে আমাকে বলল,,,,

    অধরা : এটা তো শিমুলের নাম্বার না,,।কারণ আমি তো তোর সব বন্ধুর নাম্বার জানি,,।আর এটা দেখে মনে হয় নতুন নাম্বার,,,। সত্যি করে বল শুভ্র তুই কোন মেয়ের সাথে কথা বলছিলি,,,(বেশ রাগ দেখিয়ে বলল)

    **অধরা আপুর এমন রাগ দেখে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে,,।এখন যদি সত্যিটা আপুকে বলে দেই তাহলে আমাকে শেষ করে দিবে,,,।তখন আমি বললাম,,,,

    আমি : না আপু বিশ্বাস কর আমি কোন মেয়ের সাথে কথা বলি নাই,,,।এটা শিমুলের নতুন নাম্বার তাই আপনি চিনতে পারছেন না,,,।বিশ্বাস না হলে আপনি কালকে কলেজে গিয়ে শিমুলকে জিঙ্গাসা করে দেখবেন,,,,(নরম কন্ঠে বললাম)

    **আমার কথা শুনে অধরা আপু কিছুখন কী যেন ভাবলো,,,।তারপর আমার হাতে মোবাইলটা দিয়ে বলল,,,

    অধরা : ঠিক আছে,,,তুই এখন রুমে যা,,।কালকে আবার কলেজ আছে,,,,(সাভাবিক ভাবেই বলল)

    **অধরার কথা শুনে আমি আর কিছু না বলে মোবাইলটা নিয়ে ছাদ থেকে জলদি নিচে নেমে আসি,,।তবে মনে মনে চিন্তা অধরা আপু হঠাৎ এমন নরম ব্যবহার করলো কেন,,,,,।তার মনে মনে কী চলছে ঠিক বুঝতে পারছি না,,,।তবে তার হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য সাথে সাথে শিমুলকে কল দিয়ে বলি,, যদি অধরা আপুকে তাকে কল দেয়, সে যেনো বলে আমি ওর সাথে কথা বলছিলাম,,,।আর ঐ নাম্বারটা ওরি ছিল,,,।তারপর সেখান থেকে নিজের রুমে এসে আরো কিছুখন লেখাপড়া করে ঘুমিয়ে পড়ি,,,।তবে মনে মনে শুধু একটা ভয়ই কাজ করছিল অধরা আপু যেন সত্যিটা জানতে না পারে,,,,,

    **পরের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে প্রথমে অধরা আপুর সাথেই দেখা করি,,।কারণ সে বলছে ঘুম থেকে ওঠে সবার আগে যেন তার সাথেই দেখা করি,,।তারপর বাসার কিছু প্রয়োজনীয় টুকটাক কাজ করি,,।কাজ শেষ করে সবাই মিলে একসাথে নাস্তা করি,,,।নাস্তা শেষ হলে,,আমি আর অধরা আপু কলেজে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়ি,,।তবে আজ কলেজে যাওয়ার সময় অধরা আপু আমার সাথে তেমন কোন কথা বলছে না,,। যখনি তার মুখের দিকে তাকাই তখনি মনে হয় অধরা মনে মনে কিছু একটা ভাবছে,,।আর আমিও ভয়ে তাকে কিছু জিঙ্গাসা করি নি,,।কারণ কখন আবার রেগে যায় কে জানে,,,।আজ আমি আর অধরা আপু দুজনেই কলেজে আসি রাস্তায় আপুর বান্ধুবীদের সাথে দেখা হয় নি,,।আর আমিও মনে মনে এই দোয়াটাই করছিলাম,,যেন তাদের সাথে দেখা না হয়,,,,।কারণ বলা তো যায় না,,যদি দেখা হলে সত্যিটা বেরিয়ে আসে,,,

    **তারপর আমি আর অধরা আপু কলেজে আসলে অধরা বলল,,,

    অধরা : শুভ্র সোজা ক্লাসে যাবি,,বাহিরে এসে যেন কোন মেয়ের সাথে আড্ডা দিতে না দেখি,,,,,(যাযালো কন্ঠে বলল)

    আমি : আচ্ছা ঠিক আছে,,,।আর প্রয়োজন পড়লে কল দিয়েন,,,,(নরম কন্ঠে বললাম)

    **কথাটা বলেই আমি সোজা আমার ক্লাসে চলে যাই,,।অন্যদিকে অধরা আপুও তার ক্লাসে চলে যায়,,,।আমি ক্লাসে গিয়ে দেখি আমার সব বন্ধুরা মিলে একসাথে ক্লাসে গল্প করছে,,,। তখন আমিও তাদের সাথে গল্প যোগ দেই,,,।তখন আমাকে দেখেই শিমুল বলল,,,

    শিমুল : শুভ্র,, যদি কাল রাতে কল না দিতি তাহলে আজকে ধরা খেয়ে যেতি,,,,

    আমি : কেন,, অধরা আপু কী তোর কাছে কল দিছিলো,,(অভাক হয়ে বললাম)

    শিমুল : হুম, তোর সাথে কথা বলার একটু পরেই আপু আমাকে কল করে জিঙ্গাসা করছে,,তুই কী আমার সাথে কথা বলছিলি নাকি,,তখন আমি বলছি হ্যা শুভ্র আমার সাথেই কথা বলছিল,,,,

    আমি : সুন্দর করে বলছিস তো,,নাকি আপু আবার বুঝে যাবে,,,,,,

    শিমুল : আরে বেটা অধরা আপু জীবনেও বুঝতে পারবে না,যে আমি তাকে মিথ্যা বলছি,,।আর তুই তো জানিস আমি মিথ্যায় নোবেল পাইছি,,,(হেসে বলল)

    আমি : হুম,,,না বুঝতে পারলেই ভালো,। যদি বুঝে যায় তাহলে আমার সাথে তোরও বিপদ আছে মনে রাখিস,,

    **তারপর আমরা ক্লাসের মাঝে বসে সবাই মিলে গল্প করতে থাকি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে,,,।আর একটু পরে ক্লাসে স্যার আসলে আমি ক্লাসে মনোযোগ দেই,,,,,

    অন্যদিকে,,,

    অধরা রাতে শুভ্র কার সাথে কথা বলছে এটা জানার জন্য অস্থির হয়ে আছে,,।কারণ অধরার কেন জানি বিশ্বাস হচ্ছে না,, শুভ্র তার বন্ধু শিমুলের সাথে কথা বলছে,,।আর অধরা মনে মনে সন্দেহ করছে,, শুভ্র হয়তো কোন মেয়ের সাথে কথা বলছে,,।তাই অধরা ক্লাসে গিয়ে দেখে,, তার বান্ধুবী শিমলা, অন্তরা সহ আরো কয়েক জন মিলে গল্প করছে,,।তখন অধরাও মুখে একটা মিথ্যা হাসির ভাব নিয়ে তাদের সাথে গল্পে যোগ দেয়,,,।তারা যখন সবাই মিলে গল্পে ব্যস্ত তখন অধরা বলল,,,,

    অধরা : কিরে অন্তরা তুই নতুন নাম্বার নিলি অথচ আমাকে তোর নাম্বার দিলি না,,,,(হেসে বলল)

    **অধরার কথা শুনে অন্তরা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায়,,।কারণ অন্তরা চাইছিলনা সে যে শুভ্রের সাথে কথা বলছে এটা অধরা জানতে পারুক,,,।তাই অধরার এমন কথা শুনে অন্তরা কিছুটা ঘাবরে যায়,,।তখন অন্তরা বলল,,,

    অন্তরা : না মানে তোকে নাম্বারটা দিতে ভুলে গেছি,,।কালকেই সিমটা নতুন নিছি,,,,, (ভয়াত্র কন্ঠে বলল)

    **অন্তরার কথাটা শুনেই অধরা বুঝে যায়,,কাল রাতে শুভ্র অন্তরার সাথেই কথা বলছিল,,।আর তার সাথে মিথ্যা কথা বলছে,,এটা ভাবতেই অধরার রাগে যা জ্বলে যাচ্ছে,,। তখন অধরা নিজের রাগটাকে আড়াল করে বলল,,,

    অধরা : তা তুই আমাকে আগে কল না দিয়ে কল দিলি শুভ্রকে,,,।আমার থেকে কী শুভ্র তোর কাছে বেশি হয়ে গেল,,,,(সত্যটা বের করতে মিথ্যা চাল দিলো অধরা)

    **অধরার কথা শুনে অন্তরা মনে করে শুভ্র হয়তো অধরাকে বলে দিছে,,যে আমি তাকে রাতে কল দিছিলাম,,।তখন অন্তরা বলল,,,,,

    অন্তরা : আসলে অধরা এই নাম্বারটা দিয়ে শুভ্রের সাথে একটু মজা করতে চাইছিলাম,,,।তার জন্য রাতে ওকে এই নাম্বার দিয়ে কল দিছিলাম,,।কিন্তু শুভ্র কেমন যেন কথাই বলতে চায় না,,।তুই একটু বলিস তো যেন কল দিলে একটু ভালো করে কথা বলে,,,(হেসে বলল)

    অন্তরার কথা শুনে পাশে থেকে শিমলা বলল,,,

    শিমলা : অধরা,, আমাদের অন্তরা মনে হয়,, তোদের শুভ্রের প্রেমে পড়ে গেছে,,,,,তাই না অন্তরা। যদি প্রেমে পড়িস তাহলে অধরাকে বল তোকে ম্যানেজ করে দিবে,,।আর তুই না করলে আমাকে দিয়ে দে,, আমি একটা চ্যান্স নিয়ে দেখি,,,।শুভ্রকে দেখলেই মনে ভেতর কেমন প্রেম প্রেম জাগে,,,,(হেসে বলল শিমলা)

    **শিমলার কথাটা শুনেই অন্তরা কিছুটা লজ্জা পায়,, । কারণ অন্তরা মনে মনে শুভ্রকে পছন্দ করে,,বলতে পারেন ভালবাসে,,। কিন্তু এখনো শুভ্রের সামনে প্রকাশ করে নি,,,অধরার ভয়ে,,।তখন অন্তরা বলল,,,

    অন্তরা : ধোর আমি কেন,, শুভ্রের প্রেমে পড়তে যাবো,,।এমনই ওকে একটু কল দিছিলাম কথা বলার জন্য,,।আর শুভ্রকে তো অনেকেই পছন্দ করে তাহলে,, তাহলে আমি করলে দোষ কোথায়,,,,।শুভ্রের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে,,,তাই একটু কল দিছিলাম,,,(হেসে বলল)

    **অন্তরার কথাটা শুনেই অধরা রেগে আগুন হয়ে যায়,,।কারণ অধরা কখনো চায় না,,শুভ্রের সাথে কোন মেয়ে যোগাযোগ করুক,,।কারণ অধরা নিজে শুভ্রকে অনেক ভালবাসে,,।আর অধরা শুভ্রকে এতটাই ভালবাসে যে কোন মেয়ে শুভ্রের দিকে তাকালে তার চোখ তুলে ফেলতে ইচ্ছা করে,,,।অধরার এখন ইচ্ছা করছে অন্তরা যেই মুখ দিয়ে শুভ্রের সাথে কথা বলতে চাইছে সেই মুখটা ভেঙ্গে দিতে,,,।তখন অধরার বলল,,,

    অধরা : এই তোদের লজ্জা করে না,,ছোট ভাইদের নিয়ে এমন কথা বলতে,,।শুভ্র তোদের জুনিয়র,,, সেই হিসাবে শুভ্র তোদের ছোট ভাই হয়,,,।এই সব পছন্দ অপছন্দ,,আর প্রেম ভালবাসা মাথা থেকে সরা,,।আর যদি প্রেম করতে হয় তাহলে বড়দের সাথে কর,,,।আর অন্তরা তুই শুভ্রকে কল দিয়ে একদম বিরক্ত করবি না,,কারণ সামনে ওর পরীক্ষা,,,(রাগী কন্ঠে বলল)

    **কথাটা বলেই অধরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়,,,।আর মনে মনে শুভ্র কে খোজতে থাকে,,।অধরা শুভ্রের ওপর এতটাই রেগে আছে যে,,,ওকে আজ কী করবে সেটা নিজেও জানে না,,,,

    **এদিকে

    আমি একটা ক্লাস শেষ করে আমাদের কলেজ ক্যামপাশের এক কোণায় দাড়িয়ে, বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম,,।গল্প করার মাঝেই হঠাৎ কোথা থেকে যেন অধরা আপু এসেই আমার বন্ধু শিমুলকে ঠা,,,,স, ঠা,,,,স করে দুইটা চড় মারে,,,।আর অধরা আপুর এমন চড় খেয়ে শিমুল বোকার মত গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকে,,,।তখন অধরা বলল,,,

    অধরা : তোদের সাহস হলো কী করে,, আমাকে মিথ্যা বলার,,। এরপর যদি আমার সাথে মিথ্যা বলিস তাহলে খবর আছে বলে দিলাম,,,,(খুব রাগি ভাবে বলল শিমুলকে)

    **অধরা আপুর কথা শুনেই আমার গলার পানি শুকিয়ে গেছে,,,।কারণ আমি বুঝে গেছি অধরা আপু সত্যটা জেনে গেছে,,,, এখন আমার কী অবস্থা করে সেটা আল্লাহ ভালো জানে,,,।তবুও আমি বললাম,,,,

    আমি : আপু কী হইছে,,,আপনি শিমুলকে মারলেন কেন,,,,(ভয়ে ভয়ে বললাম)

    **আমার কথা শুনেই অধরা চোখ গুলো লাল করে আমার দিকে তাকায়,,,।আর রাগে গরগর করতে করতে বলল,,,,

    অধরা : কেন,, মারছি তোকে সেটা বাসায় নিয়ে বুঝাবো,,।আমার সাথে মিথ্যা বলার ফল দেখাবো,,।এক্খনি বাসায় চল,,,।আজ তোর ক্লাস বাসায় করাবো,,,,

    আমি : কলেজ তো এখনি ছুটি হবে না,,,।আর আপনার ক্লাস আছে না,,,,(ভয়ে ভয়ে বললাম)

    **আমার কথা শুনে অধরা রাগে চিৎকার করে বলল,,,

    অধরা : শুভ্র আমি তোকে বাসায় যেতে বলছি,,,তুই এখনি বাসায় যাবি,,আর যদি একটা কথা বলিস তাহলে তোর ভালো হবে না,,,চল এখন বাসায়,,

    **কথাটা বলেই অধরা আমার হাত ধরে টেনে কলেজের বাহিরে নিয়ে আসে,,। তারপর সে নিজেই একটা রিকশা ডেকে সেটাতে আমাকে হাত ধরে টেনে তুলে,,,।সারা রাস্তা আমার হাত শক্ত করে ধরে রাখে যেন আমি পালাতে না পারি,,,।সারা রাস্তা বির বির করে কী যেন বলতে বলতে বাসার সামনে আসে,,,।রিকশা থেকে নেমেই আমাকে হাত ধরে টানতে টানতে অধরা নিজের রুমে নিয়ে যায়,,,।আর অধরা আমাকে তার রুমে নিয়ে,,ভয়ংকর রাগী একটা ভাব নিয়ে বলল,,,

    অধরা : *****-******চলবে*****

  • Comment: 0
  • View: 160
  • Share
  • Comments

    Be the first comment
    Please Login or Sing up now to comment.

  • ©Get This Website Theme Free!

  • Just Type a Password...