Write your own story


  • Home
  • Singup
  • Login

  • কিভাবে ধংস হচ্ছে পৃথিবী?:
  • hasan
  • Category: My story
  • 3 months ago



  • মিডিয়ার মিথ্যাকাহিনী এবং আমাদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ।

    সাম্প্রতিক MasterChef Australia টিভি শোতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বংশভূত দুই সন্তানের জননী Kishwar Chowdhury (৩৮) পেশায় একজন প্রিন্টিং ব্যবসায়ী, যাকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। বাংলাদেশিরা বলছেন তিনি বাংলাদেশি, আর ভারতীয়রা বলছেন তিনি ভারতীয়; আসলে তিনি অস্ট্রেলীয়ান। কিশোয়ারের পিতা (কামরুল) বাংলাদেশি এবং মাতা (লায়লা) ভারতীয় (কলকাতা), তার জন্ম এবং বেড়ে উঠা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। পড়ালেখা করেছেন কমার্সে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়ে Monash University তে, পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছেন গ্রাফিক ডিজাইনে লন্ডনে ইউনিভারসিটি অব আর্টস থেকে।

    মূল কথায় আসি, বিশ্বের প্রায় সকল গণমাধ্যম এবং টিভি শোর সিরিজ গুলো তৈরি হয় মূলত অধিক দর্শক আকর্ষিত করে বিজ্ঞাপন এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত করা। এখানে একটি তথ্য উপস্থাপন করছি ওয়াল্ড ব্যংকের তথ্যমতে ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৩৬+ কোটি (২০১৯), বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬+ কোটি (২০১৯), এবং অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা ২.৫+ কোটি (২০১৯)। আকারে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চাইতে ৫২ গুণ বড়। মাস্টারশেফ অস্ট্রেলীয়া টিভি শোর অনুষ্ঠানটি যদি শুধুমাত্র অস্ট্রেলীয়ার দর্শকশ্রোতা কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় তবে ততটা বিস্তৃত হতো না, যেটা এখন হয়েছে। সাধারণ জনগণ মিডিয়ার প্রচারিত খবর এবং অনুষ্ঠান গুলো অতিমাত্রায় সাজানো এবং মিথ্যাকাহিনী নির্ভর হয়ে থাকে জেনেও বিশ্বাস করে থাকে। কারন মিডিয়াগুলো যেকোন একটি বিষয় এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে করে আমাদের বিচারশক্তি লোপ পায়, যে কথা শিকার করেছিলেন হিটলার তার আত্নজীবনী গ্রন্থ "মাইন ক্যাম্ফ" এ। হিটলার বলেছেন ইহুদিরা বরই বিস্মৃতিপরায়ণ। অর্থাৎ তারা যদি গতকাল তর্কে হেরে যায় পরেরদিন অস্বীকার করে, এবং গতকালের সেই অসংগতিপূর্ণ যুক্তিটাকেই তুলে ধরবে এমনভাবে যেন গতকাল তাদের সঙ্গে কোন আলোচনাই হয়নি। তখন যদি কেউ রাগ করে তাকে গতকালের কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়, সে এমন অবাক হওয়ার ভাণ করবে যেন তার কিছুই মনে নেই। শুধু একমাত্র তার যা স্মরণ আছে তা হল গতকাল সে তো প্রমাণই করে দিয়েছে যে তার যুক্তিগুলোই ঠিক। তৎকালিন মিডিয়াগুলো ইহুদিরাই বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, এখন করে। তারাই মূলত সাজানো এবং মিথ্যাকাহিনী নির্ভর মিডিয়ার আবিষ্কারক, যে তত্ত্ব বেশিরভাগ মিডিয়া এখন অনুসরণ করে। তবে আমি এটা অস্বীকার করবোনা মিডিয়া আমাদের উপকৃত করছেনা, তবে যে মাত্রায় করছে তার পরিমাণ নগণ্য। এটা আমার মত, কেউ একমত হলে বুঝবো সংখ্যাটা বাড়ছে, দ্বিমত হলে বুঝবো ব্যক্তির ভালোমন্দ বুঝে নেওয়ার নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা তার আছে। ২০১৭ সালে আমেরিকা, জাপান ইন্ডিয়া এবং অস্ট্রেলীয়া একটি জোট গঠন করেছে, নাম কোয়াড। চীনকে কুটনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামরিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য মূলত এই জোট ২০০৭ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সম্প্রতি চীনের উদ্যোগে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলংকা এবং বাংলাদেশ সার্কভুক্ত এই পাঁচটি দেশ নিয়ে দারিদ্র বিমোচনের জন্য একটি জোট গঠন করা হয়েছে, নাম China-South Asian Countries Proverty Alleviation and Cooperation Development Center। এই জোট গঠনের আগে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উল্লেক্ষিত পাঁচটি দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। এখানে বাদ গেছে ভারত, ভুটান, এবং মালদ্বীপ। এই জোটের লক্ষই যদি দারিদ্র বিমোচন হয়ে থাকে তাহলে ভারতকে এর অন্তর্ভুক্ত করার উচিৎ ছিলো, কারন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে দারিদ্র্যতার হার সবচেয়ে বেশি। কৌশলগত কারনে হয়ত আপাদত ভুটান এবং মালদ্বীপকে অন্তভূক্ত করা না হলেও পরে তাদের যোগদান সময়ের ব্যপার মাত্র। ভারত সার্ককে দূর্বল করে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ড এই সাতটি দেশ নিয়ে তৈরি করেছে Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economical Cooperation (BIMSTEC)। আন্তর্জাতিক কুটনীতিতে বড় রাষ্ট্র গুলোর অখন্ডতা ধরে রাখার জন্য একটি প্রবচন আছে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আপনি আপনার বন্ধু রাষ্ট্র নির্নয় বা পরিত্যাগ করতে পারবেন কিন্তু কখনই আপনি আপনার প্রতিবেশী রাষ্ট্র পরিবর্তন করতে পারবেননা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের আধিপত্য এবং পরাশক্তি হওয়ার জন্য অবশ্যই প্রতিবেশীদের শক্ত সমর্থন প্রয়োজন, যেটা ভারত তৈরি করতে পারেনি। সামনের দিনগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং মানচিত্র নিয়ে তৈরি হবে নানা সমীকরণ, বাংলাদেশ কি পারবে তার স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্যের অখন্ডতা ধরে রাখতে? বিশ্বে যে সকল দেশ নেত্রীত্ব দিচ্ছে তারা তাদের অপরাধ এবং কুকর্ম গুলো ধামাচাপা দিচ্ছে মিডিয়ার মাধ্যমে। টুইন টাওয়ার হামলা যে আমেরিকার নিজস্ব পরিকল্পিত ছিলো সেটা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। এরপর মিডিয়া সন্ত্রাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ধারাবাহিকভাবে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, এবং লিবিয়ায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে, বাকি বিশ্বের দেশগুলো দেখেদেখে তা অনেকেই মেনে নিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে তারা নিরাপরাধ লক্ষ লক্ষ সাধারন মানুষ হত্যা করছে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ কাউকেই বাদ দেয়নি। তথাকথিত এসকল সভ্য পরিচয়হীন নগ্ন জাতির লোকেরা সেসব এলাকায় বর্বরোচিত ধর্ষণ এবং হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমরা সাধারন জনগণ মৌণ প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছি। মজার বিষয় হলো বিশ্বে ধর্ষনের রেকডে তারা এগিয়ে থাকলেও মানবাধিকারের ছবক তারাই শেখায়। কারন আমরা তাদের মিডিয়ার দাশত্ব বরণ করে নিয়েছি। শেষকথা হলো মিডিয়ায় টকশো, রিয়েলিটি শো, এবং বিভিন্ন টিভি শোর সম্প্রচারের মাধ্যমে মনমগজ ধোলাই করে প্রথমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা হয়। মিডিয়া সংবাদ এবং চিত্র এমনভাবে উপস্থাপন করে যার মাধ্যমে দর্শক আনন্দ উপভোগ করে, ফলশ্রুতিতে পর্যায়ক্রমে তার দর্শকশ্রোতার বিচারশক্তি লোপ পায়। এই মায়াজাল থেকে বের হওয়া সহজ নয়, নতুন প্রজন্মকে যদি আমরা মিডিয়ার সজানো এবং মিথ্যাকাহিনী থেকে সচেতন করতে না পারি তাহলে সামনের দিনগুলোতে জাতি হিসেবে খারাপ সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের বিকল্প কোন উপায় থাকবেনা।

    মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
    13 July 2021
    লেখক, প্রযুক্তি এবং রাজনীতি

  • Comment: 0
  • View: 70
  • Share
  • Comments

    Be the first comment
    Please Login or Sing up now to comment.
  • ©Get This Website Theme Free!

  • Just Type a Password...